Logo

শীতে বাড়তে পারে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি

রিপোর্টার: জীবনযাপন ডেস্ক
তারিখ: 04 November 2026
শীতের শুরুতে আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি ও শ্বাসজনিত নানা রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়, যা অনেক সময় ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং যাদের হাঁপানির মতো সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি অনেক বেশি। আর শীত পড়তেই শ্বাসের সংক্রমণের ভয়ও বেড়ে যায়। সে জন্য শিশু ও বয়স্কদের সাবধানে থাকতে হয়। এ সময় থেকেই সতর্কতা নেওয়া জরুরি।

কারণ শীতে সর্দি-কাশি লাগলে আর সারতে চায় না। তখন মাঝেমধ্যেই জ্বর চলে আসে। এসব যে কেবল ভাইরাস জ্বরের লক্ষণ তা নয়। শীত পড়ার আগে আবহাওয়ার বদলের এই সময়ে শ্বাসজনিত নানা রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। কারণ শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে এ রোগ হয়।

অল্প থেকে ক্রমশ গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে নিউমোনিয়া, যার কারণে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। মূলত ফুসফুসের সংক্রমণই এর কারণ বলে ধরা হয়। তবে কখনো ফুসফুসে পানি জমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আর আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দূষণও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। কাজেই শ্বাসের রোগ, নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই এখন থেকেই সতর্ক হওয়া ভীষণ জরুরি।

ভাইরাসঘটিত বা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া হতে পারে। ছত্রাক থেকেও নিউমোনিয়া হয়। এদের আবার রকমফের রয়েছে। এ সময়ে রেসপিরেটরি ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ে। সে কারণেও শ্বাসের রোগ হতে দেখা যায়। বিশেষ করে যাদের সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জির ধাত বেশি, তাদের সংক্রমণ হওয়ার ভয়ও বেশি।
কারণ নিউমোনিয়ার প্রথম দিকে সাধারণ জ্বর, সর্দি এবং কাশির উপসর্গই দেখা যায়। তবে কিছু দিন পর থেকেই এ উপসর্গগুলোর প্রকোপ বাড়তে থাকে। দেখা যায়, জ্বর কিছুতেই কমছে না। সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। কাশিও একইভাবে বাড়ছে। বুকের ব্যথাও থাকছে। সাধারণত সর্দি-কাশি হলে ওষুধ দেওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসায় সাড়া পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে তেমন হয় না। শ্বাস নেওয়ার সময়ে বুকে ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। মাথায় যন্ত্রণা বাড়ে। সারাক্ষণ বমি বমি ভাব থাকে এবং খিদেও কমে যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, নিউমোনিয়া প্রতিরোধে করণীয় কী—
ঠান্ডা লাগানো যাবে না কোনোভাবেই। যাদের নিউমোনিয়া সংক্রমণের অতিরিক্ত সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন ফুসফুসের অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, হৃদযন্ত্র, লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি— এমনকি যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তারাও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিউমোনিয়া প্রতিরোধক টিকা নিতে পারেন।

ধূমপান ও মদপান থেকে দূরে থাকা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস তৈরি করতে পারলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সার্বিকভাবে বেড়ে যায়।

সুতরাং শিশু হোক কিংবা বয়স্ক— নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত ধুয়ে মাস্ক পরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি টিকা নেওয়া প্রয়োজন। কাশি, জ্বর ও শ্বাসের কষ্ট হলে নিজে থেকে ওষুধ কিনে না খেয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শামসুদ্দোহা প্রিন্স

বার্তা সম্পাদক
মাসুদ রানা
ঠিকানা: ২৮/১ টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা।  |  ফোন: 01778285847  |  ই-মেইল: natonbangladesh@gmail.com
© 2026 notunbangladesh24. All Rights Reserved.
ঢাকা  |  Thursday, 05 November, 2026
Notun Bangladesh 24
লাইফস্টাইল

শীতে বাড়তে পারে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি

জীবনযাপন ডেস্ক
স্টাফ রিপোর্টার
04 Nov 2026
News Image

বিস্তারিত পড়ুন

শীতের শুরুতে আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি ও শ্বাসজনিত নানা রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়, যা অনেক সময় ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং যাদের হাঁপানির মতো সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি অনেক বেশি। আর শীত পড়তেই শ্বাসের সংক্রমণের ভয়ও বেড়ে যায়। সে জন্য শিশু ও বয়স্কদের সাবধানে থাকতে হয়। এ সময় থেকেই সতর্কতা নেওয়া জরুরি।

কারণ শীতে সর্দি-কাশি লাগলে আর সারতে চায় না। তখন মাঝেমধ্যেই জ্বর চলে আসে। এসব যে কেবল ভাইরাস জ্বরের লক্ষণ তা নয়। শীত পড়ার আগে আবহাওয়ার বদলের এই সময়ে শ্বাসজনিত নানা রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। কারণ শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে এ রোগ হয়।

অল্প থেকে ক্রমশ গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে নিউমোনিয়া, যার কারণে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। মূলত ফুসফুসের সংক্রমণই এর কারণ বলে ধরা হয়। তবে কখনো ফুসফুসে পানি জমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আর আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দূষণও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। কাজেই শ্বাসের রোগ, নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই এখন থেকেই সতর্ক হওয়া ভীষণ জরুরি।

ভাইরাসঘটিত বা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া হতে পারে। ছত্রাক থেকেও নিউমোনিয়া হয়। এদের আবার রকমফের রয়েছে। এ সময়ে রেসপিরেটরি ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ে। সে কারণেও শ্বাসের রোগ হতে দেখা যায়। বিশেষ করে যাদের সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জির ধাত বেশি, তাদের সংক্রমণ হওয়ার ভয়ও বেশি।
কারণ নিউমোনিয়ার প্রথম দিকে সাধারণ জ্বর, সর্দি এবং কাশির উপসর্গই দেখা যায়। তবে কিছু দিন পর থেকেই এ উপসর্গগুলোর প্রকোপ বাড়তে থাকে। দেখা যায়, জ্বর কিছুতেই কমছে না। সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। কাশিও একইভাবে বাড়ছে। বুকের ব্যথাও থাকছে। সাধারণত সর্দি-কাশি হলে ওষুধ দেওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসায় সাড়া পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে তেমন হয় না। শ্বাস নেওয়ার সময়ে বুকে ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। মাথায় যন্ত্রণা বাড়ে। সারাক্ষণ বমি বমি ভাব থাকে এবং খিদেও কমে যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, নিউমোনিয়া প্রতিরোধে করণীয় কী—
ঠান্ডা লাগানো যাবে না কোনোভাবেই। যাদের নিউমোনিয়া সংক্রমণের অতিরিক্ত সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন ফুসফুসের অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, হৃদযন্ত্র, লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি— এমনকি যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তারাও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিউমোনিয়া প্রতিরোধক টিকা নিতে পারেন।

ধূমপান ও মদপান থেকে দূরে থাকা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস তৈরি করতে পারলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সার্বিকভাবে বেড়ে যায়।

সুতরাং শিশু হোক কিংবা বয়স্ক— নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত ধুয়ে মাস্ক পরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি টিকা নেওয়া প্রয়োজন। কাশি, জ্বর ও শ্বাসের কষ্ট হলে নিজে থেকে ওষুধ কিনে না খেয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।