Logo

আজ জাতীয় ক্যান্ডি দিবস

রিপোর্টার: অনলাইন ডেক্স
তারিখ: 04 November 2026
মিষ্টি খেতে ভালোবাসেন, এমন মানুষের কাছে ক্যান্ডির আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। ছোট-বড় সবার পছন্দের এই মিষ্টান্নের নানা ধরন, স্বাদ ও বৈচিত্র্য উদ্‌যাপনে আজ ৪ নভেম্বর পালিত হচ্ছে জাতীয় ক্যান্ডি দিবস।


দিনটি ক্যান্ডিপ্রেমীদের কাছে পছন্দের মিষ্টি উপভোগের পাশাপাশি নতুন স্বাদের ক্যান্ডি চেখে দেখারও উপলক্ষ।
ক্যান্ডি শুধু একটি মিষ্টি খাবার নয়, অনেকের কাছে এটি শৈশবের স্মৃতি ও আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্কুলের টিফিনের ফাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে ক্যান্ডি ভাগ করে খাওয়া, দোকান থেকে পছন্দের রঙিন মিষ্টি কিনে নেওয়া কিংবা উৎসবে উপহার হিসেবে চকলেট পাওয়া—এমন নানা স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে ক্যান্ডি।

হার্ড ক্যান্ডি, জেলি ক্যান্ডি, ক্যারামেল, টফি, গামি বিয়ার, ললিপপ ও মিন্ট—প্রতিটির স্বাদ, গঠন ও তৈরির পদ্ধতি আলাদা। কোনোটি শক্ত ও দীর্ঘক্ষণ মুখে রেখে খেতে হয়, আবার কোনোটি নরম ও চিবিয়ে খাওয়ার উপযোগী। ফলের স্বাদ, পুদিনা, দুধ, ক্যারামেল কিংবা চকোলেট—বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হয় এসব ক্যান্ডি।
হার্ড ক্যান্ডি সাধারণত চিনি ও কর্ন সিরাপের মিশ্রণ গরম করে তৈরি করা হয়।
অন্যদিকে, জেলি ও গামি ক্যান্ডিতে জেলাটিন বা পেকটিনের মতো উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা এগুলোকে নরম ও চিবানোর উপযোগী করে তোলে। ক্যারামেল তৈরি হয় চিনি গরম করে, অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে দুধ ও মাখন যোগ করা হয়। আবার টফি তৈরিতে চিনির পাশাপাশি মাখনও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

ক্যান্ডির ইতিহাস

ক্যান্ডির ইতিহাস বেশ পুরোনো। প্রাচীন সভ্যতাগুলোতে মধু ব্যবহার করে ফল, বাদাম ও বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে মিষ্টি খাবার তৈরি করা হতো।
তখনকার দিনে আজকের মতো চিনি সহজলভ্য ছিল না। পরে আখ থেকে চিনি উৎপাদন ও এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়লে মিষ্টান্ন তৈরির ধরনেও পরিবর্তন আসে।
মধ্যযুগে ইউরোপে চিনি দিয়ে তৈরি মিষ্টি খাবার ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে চিনির উৎপাদন বাড়ে এবং ক্যান্ডি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসে। শিল্পবিপ্লবের পর ক্যান্ডি তৈরির যন্ত্র ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বড় পরিসরে নানা ধরনের ক্যান্ডি উৎপাদন সম্ভব হয়। একসময় হাতে তৈরি মিষ্টান্নের জায়গা নেয় বিভিন্ন আকৃতি, রং ও স্বাদের প্যাকেটজাত ক্যান্ডি।

কেন পালিত হয় জাতীয় ক্যান্ডি দিবস

জাতীয় ক্যান্ডি দিবস মূলত ক্যান্ডি ও মিষ্টান্নের বৈচিত্র্য উদ্‌যাপনের একটি দিন। এ উপলক্ষে ক্যান্ডিপ্রেমীরা নিজেদের পছন্দের মিষ্টি উপভোগ করেন। কেউ পুরোনো প্রিয় স্বাদে ফিরে যান, আবার কেউ নতুন ধরনের ক্যান্ডি চেখে দেখেন। বিভিন্ন দেশে ক্যান্ডি ও মিষ্টান্নকে ঘিরে উৎসব, উপহার দেওয়া কিংবা বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়েও দিনটি উদ্‌যাপন করা হয়।

ক্যান্ডি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা

ক্যান্ডি খেতে সুস্বাদু হলেও অধিকাংশ ক্যান্ডিতে চিনি বেশি থাকে। অতিরিক্ত চিনি দাঁতের ক্ষয়, ওজন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে আঠালো ও দীর্ঘক্ষণ মুখে লেগে থাকে এমন ক্যান্ডি দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ক্যান্ডি খেতে হলে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। খাওয়ার পর পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা এবং নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

দিনটি উপলক্ষে পছন্দের ক্যান্ডি উপভোগ করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, মিষ্টির স্বাদ উপভোগের পাশাপাশি সুস্থতার জন্য পরিমিতি বজায় রাখাও প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শামসুদ্দোহা প্রিন্স

বার্তা সম্পাদক
মাসুদ রানা
ঠিকানা: ২৮/১ টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা।  |  ফোন: 01778285847  |  ই-মেইল: natonbangladesh@gmail.com
© 2026 notunbangladesh24. All Rights Reserved.
ঢাকা  |  Thursday, 05 November, 2026
Notun Bangladesh 24
লাইফস্টাইল

আজ জাতীয় ক্যান্ডি দিবস

অনলাইন ডেক্স
স্টাফ রিপোর্টার
04 Nov 2026
News Image

বিস্তারিত পড়ুন

মিষ্টি খেতে ভালোবাসেন, এমন মানুষের কাছে ক্যান্ডির আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। ছোট-বড় সবার পছন্দের এই মিষ্টান্নের নানা ধরন, স্বাদ ও বৈচিত্র্য উদ্‌যাপনে আজ ৪ নভেম্বর পালিত হচ্ছে জাতীয় ক্যান্ডি দিবস।


দিনটি ক্যান্ডিপ্রেমীদের কাছে পছন্দের মিষ্টি উপভোগের পাশাপাশি নতুন স্বাদের ক্যান্ডি চেখে দেখারও উপলক্ষ।
ক্যান্ডি শুধু একটি মিষ্টি খাবার নয়, অনেকের কাছে এটি শৈশবের স্মৃতি ও আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্কুলের টিফিনের ফাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে ক্যান্ডি ভাগ করে খাওয়া, দোকান থেকে পছন্দের রঙিন মিষ্টি কিনে নেওয়া কিংবা উৎসবে উপহার হিসেবে চকলেট পাওয়া—এমন নানা স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে ক্যান্ডি।

হার্ড ক্যান্ডি, জেলি ক্যান্ডি, ক্যারামেল, টফি, গামি বিয়ার, ললিপপ ও মিন্ট—প্রতিটির স্বাদ, গঠন ও তৈরির পদ্ধতি আলাদা। কোনোটি শক্ত ও দীর্ঘক্ষণ মুখে রেখে খেতে হয়, আবার কোনোটি নরম ও চিবিয়ে খাওয়ার উপযোগী। ফলের স্বাদ, পুদিনা, দুধ, ক্যারামেল কিংবা চকোলেট—বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হয় এসব ক্যান্ডি।
হার্ড ক্যান্ডি সাধারণত চিনি ও কর্ন সিরাপের মিশ্রণ গরম করে তৈরি করা হয়।
অন্যদিকে, জেলি ও গামি ক্যান্ডিতে জেলাটিন বা পেকটিনের মতো উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা এগুলোকে নরম ও চিবানোর উপযোগী করে তোলে। ক্যারামেল তৈরি হয় চিনি গরম করে, অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে দুধ ও মাখন যোগ করা হয়। আবার টফি তৈরিতে চিনির পাশাপাশি মাখনও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

ক্যান্ডির ইতিহাস

ক্যান্ডির ইতিহাস বেশ পুরোনো। প্রাচীন সভ্যতাগুলোতে মধু ব্যবহার করে ফল, বাদাম ও বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে মিষ্টি খাবার তৈরি করা হতো।
তখনকার দিনে আজকের মতো চিনি সহজলভ্য ছিল না। পরে আখ থেকে চিনি উৎপাদন ও এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়লে মিষ্টান্ন তৈরির ধরনেও পরিবর্তন আসে।
মধ্যযুগে ইউরোপে চিনি দিয়ে তৈরি মিষ্টি খাবার ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে চিনির উৎপাদন বাড়ে এবং ক্যান্ডি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসে। শিল্পবিপ্লবের পর ক্যান্ডি তৈরির যন্ত্র ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বড় পরিসরে নানা ধরনের ক্যান্ডি উৎপাদন সম্ভব হয়। একসময় হাতে তৈরি মিষ্টান্নের জায়গা নেয় বিভিন্ন আকৃতি, রং ও স্বাদের প্যাকেটজাত ক্যান্ডি।

কেন পালিত হয় জাতীয় ক্যান্ডি দিবস

জাতীয় ক্যান্ডি দিবস মূলত ক্যান্ডি ও মিষ্টান্নের বৈচিত্র্য উদ্‌যাপনের একটি দিন। এ উপলক্ষে ক্যান্ডিপ্রেমীরা নিজেদের পছন্দের মিষ্টি উপভোগ করেন। কেউ পুরোনো প্রিয় স্বাদে ফিরে যান, আবার কেউ নতুন ধরনের ক্যান্ডি চেখে দেখেন। বিভিন্ন দেশে ক্যান্ডি ও মিষ্টান্নকে ঘিরে উৎসব, উপহার দেওয়া কিংবা বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়েও দিনটি উদ্‌যাপন করা হয়।

ক্যান্ডি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা

ক্যান্ডি খেতে সুস্বাদু হলেও অধিকাংশ ক্যান্ডিতে চিনি বেশি থাকে। অতিরিক্ত চিনি দাঁতের ক্ষয়, ওজন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে আঠালো ও দীর্ঘক্ষণ মুখে লেগে থাকে এমন ক্যান্ডি দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ক্যান্ডি খেতে হলে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। খাওয়ার পর পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা এবং নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

দিনটি উপলক্ষে পছন্দের ক্যান্ডি উপভোগ করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, মিষ্টির স্বাদ উপভোগের পাশাপাশি সুস্থতার জন্য পরিমিতি বজায় রাখাও প্রয়োজন।