Logo

মণিপুরে নাগা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলি

রিপোর্টার: অনলাইন ডেক্স
তারিখ: 05 November 2026
মণিপুরের নোনে জেলায় দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী নাগা গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় তিন চরমপন্থী নিহত ও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর, উখ্রুল জেলার ইম্ফল-উখ্রুল সড়কে যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায় সন্দেহভাজন চরমপন্থীরা; তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বধবার সকালে নোনে জেলার তাওদাইজাং গ্রামে জেনচুই পরিচালিত জেনলিয়াংরং ইউনাইটেড ফ্রন্ট (জেডইউএফ-জে) এবং কামসন পরিচালিত জেডইউএফ-কে ও ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগালিম (এনএসসিএন-আইএম)-এর একটি যৌথ দলের মধ্যে এই বন্দুকযুদ্ধ ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দুজন কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরকারী জেডইউএফ-জে গোষ্ঠীর এবং একজন জেডইউএফ-কে গোষ্ঠীর সদস্য।

গত ১ নভেম্বর জেডইউএফ-কে এক বিবৃতিতে জেডইউএফ-জে-এর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে হাত মেলানোর অভিযোগ তোলে। জেডইউএফ-জে ২০২২ সালে কেন্দ্র সরকারের সাথে সশস্ত্র লড়াই স্থগিতের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।

নাগাল্যান্ডের হেব্রনে সদর দফতর অবস্থিত এনএসসিএন-আইএম একটি দীর্ঘদিনের সর্ব-নাগা সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন। সংস্থাটি আসাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ এবং মায়ানমারের অংশবিশেষ নিয়ে নাগা অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে একত্রিত করে একটি স্বাধীন ‘নাগালিম’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। মণিপুরে সংগঠনটির শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে, যা এর প্রধান টি মুইভার নিজ রাজ্য। অন্যদিকে, জেলিওংরং সম্প্রদায়ের (যেটিতে মূলত জেমে, লিয়াংমাই ও রংমেই নাগা উপজাতি অন্তর্ভুক্ত) স্বার্থরক্ষায় ২০১১ সালে আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে জেডইউএফ গঠিত হয়। এটি মূলত মণিপুরের তামেংলং ও নোনে জেলায় সক্রিয়।

বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট নাগাদ উখ্রুল জেলার টিএম কাসোম গ্রামের কাছে সন্দেহভাজন চরমপন্থীরা যাত্রীবাহী গাড়ি ও একটি পণ্যবাহী ট্রাকে অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গাড়িগুলো ইম্ফল থেকে উখ্রুল যাচ্ছিল এবং লিটান পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী এগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে নিরাপত্তা সদস্যরা সরে গেলে হামলাটি ঘটে।প্রায় ১০ মিনিট ধরে এই গোলাগুলি চলে। গাড়ির যাত্রীরা দ্রুত আত্মরক্ষা করায় কারোর কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি।কাংপোকপি জেলায় ‘কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি’ তাদের সর্বাত্মক ধর্মঘটের মেয়াদ আরও ৪৮ ঘণ্টা বাড়িয়ে ৬ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত করেছে। দুজন কুকি-জো সাধারণ নাগরিক হত্যার বিরুদ্ধে সরকার যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়া এবং তাদের দাবিগুলো পূরণ না করার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িত থাকার সন্দেহে শান্তি আলোচনায় যুক্ত নয় এমন সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচান্দ সিং। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থাগুলোকে এসব গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর হামলায় এসব গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সেগুলোকে 'বেআইনি' ঘোষণা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শামসুদ্দোহা প্রিন্স

বার্তা সম্পাদক
মাসুদ রানা
ঠিকানা: ২৮/১ টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা।  |  ফোন: 01778285847  |  ই-মেইল: natonbangladesh@gmail.com
© 2026 notunbangladesh24. All Rights Reserved.
ঢাকা  |  Thursday, 05 November, 2026
Notun Bangladesh 24
আন্তর্জাতিক

মণিপুরে নাগা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলি

অনলাইন ডেক্স
স্টাফ রিপোর্টার
05 Nov 2026
News Image

বিস্তারিত পড়ুন

মণিপুরের নোনে জেলায় দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী নাগা গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় তিন চরমপন্থী নিহত ও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর, উখ্রুল জেলার ইম্ফল-উখ্রুল সড়কে যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায় সন্দেহভাজন চরমপন্থীরা; তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বধবার সকালে নোনে জেলার তাওদাইজাং গ্রামে জেনচুই পরিচালিত জেনলিয়াংরং ইউনাইটেড ফ্রন্ট (জেডইউএফ-জে) এবং কামসন পরিচালিত জেডইউএফ-কে ও ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগালিম (এনএসসিএন-আইএম)-এর একটি যৌথ দলের মধ্যে এই বন্দুকযুদ্ধ ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দুজন কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরকারী জেডইউএফ-জে গোষ্ঠীর এবং একজন জেডইউএফ-কে গোষ্ঠীর সদস্য।

গত ১ নভেম্বর জেডইউএফ-কে এক বিবৃতিতে জেডইউএফ-জে-এর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে হাত মেলানোর অভিযোগ তোলে। জেডইউএফ-জে ২০২২ সালে কেন্দ্র সরকারের সাথে সশস্ত্র লড়াই স্থগিতের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।

নাগাল্যান্ডের হেব্রনে সদর দফতর অবস্থিত এনএসসিএন-আইএম একটি দীর্ঘদিনের সর্ব-নাগা সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন। সংস্থাটি আসাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ এবং মায়ানমারের অংশবিশেষ নিয়ে নাগা অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে একত্রিত করে একটি স্বাধীন ‘নাগালিম’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। মণিপুরে সংগঠনটির শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে, যা এর প্রধান টি মুইভার নিজ রাজ্য। অন্যদিকে, জেলিওংরং সম্প্রদায়ের (যেটিতে মূলত জেমে, লিয়াংমাই ও রংমেই নাগা উপজাতি অন্তর্ভুক্ত) স্বার্থরক্ষায় ২০১১ সালে আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে জেডইউএফ গঠিত হয়। এটি মূলত মণিপুরের তামেংলং ও নোনে জেলায় সক্রিয়।

বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট নাগাদ উখ্রুল জেলার টিএম কাসোম গ্রামের কাছে সন্দেহভাজন চরমপন্থীরা যাত্রীবাহী গাড়ি ও একটি পণ্যবাহী ট্রাকে অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গাড়িগুলো ইম্ফল থেকে উখ্রুল যাচ্ছিল এবং লিটান পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী এগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে নিরাপত্তা সদস্যরা সরে গেলে হামলাটি ঘটে।প্রায় ১০ মিনিট ধরে এই গোলাগুলি চলে। গাড়ির যাত্রীরা দ্রুত আত্মরক্ষা করায় কারোর কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি।কাংপোকপি জেলায় ‘কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি’ তাদের সর্বাত্মক ধর্মঘটের মেয়াদ আরও ৪৮ ঘণ্টা বাড়িয়ে ৬ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত করেছে। দুজন কুকি-জো সাধারণ নাগরিক হত্যার বিরুদ্ধে সরকার যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়া এবং তাদের দাবিগুলো পূরণ না করার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িত থাকার সন্দেহে শান্তি আলোচনায় যুক্ত নয় এমন সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচান্দ সিং। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থাগুলোকে এসব গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর হামলায় এসব গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সেগুলোকে 'বেআইনি' ঘোষণা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।