অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানের হাত ধরে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠেছিল লাল-সবুজের মাথায়। ফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের ১-১ গোলের সমতার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছিল ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী আসন। হাসান আল মামুন, আমিনুল, সুজন, আলফাজদের হাত ধরেই এসেছিল বাংলাদেশের ফুটবলের সেই সোনালি বিকেল।
অথচ সেই সাফল্যের পর পেরিয়ে গেছে দুই যুগেরও বেশি সময়। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে আর ওড়েনি বাংলাদেশের বিজয় নিশান। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে আরও একটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দুয়ারে দাঁড়িয়ে দেশ।
আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে নতুন আসর। নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশার ভিড়ে তাই ফিরে ফিরে আসছে সেই পুরোনো সোনালি দিনের গল্প। সময়ের স্রোতে বদলে গেছে জীবন, বদলেছে মাঠের ঠিকানা, অনেকেই পেশাদার ফুটবল থেকে দূরে।
যে ১১ জন একদিন দেশের ফুটবলকে এনে দিয়েছিলেন সবচেয়ে বড় গৌরব, ২৬ বছর পর তাদের কে কোথায়, কেমন আছেন, কী করছেন? সেই খোঁজেই ফিরে দেখা বাংলাদেশের ফুটবলের অমর একাদশকে...
আমিনুল হক
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক গোলবারের নিচে অতন্দ্রপ্রহরী। অবসরের পর পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ। গোলবারের মতো এখন সামলান বিএনপির ঢাকা উত্তরের রাজনীতি। তার থেকেও বড় পরিচয় আমিনুল এখন ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বেশ সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন আমিনুল।
নজরুল ইসলাম
ফুটবলের দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষ করে তারকা ডিফেন্ডার নজরুল ইসলাম নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। সাবেক তারকা ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু, মোনেম মুন্নার পথ অনুসরণ করে ঢাকার ফুটবলে পা রেখে ২০০৭ সালে জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেন নজরুল। ৯৩ সালে ঢাকার ফুটবলে ফরাশগঞ্জ দিয়ে খেলতে শুরু করেন তিনি। এছাড়াও মোহামেডান, ব্রাদার্সে ৯৫ সালে জাতীয় ফুটবল দলে নাম লেখান। ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় আবাহনী লিমিটেডে খেলা এই সেন্টারব্যাক ক্যারিয়ার শেষে আবাহনীর সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
হাসান আল মামুন
২০০৩ সালে নিয়মিত অধিনায়ক রজনী কান্ত বর্মণের অনুপস্থিতিতে ফাইনালে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ডিফেন্ডার হাসান আল মামুন। এবারও তাকে দেখা যাবে মাঠে। খেলোয়াড় হিসেবে নয় অবশ্যই। জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করছেন হাসান আল মামুন।
মোহাম্মদ সুজন
টাইব্রেকারে বাংলাদেশকে সাফ জেতাতে শেষ শটে গোল করেছিলেন মোহাম্মদ সুজন। গোলের পর তার জার্সি খুলে মাঠে দৌড় দেওয়ার ছবি এখনও ফুটবলপ্রেমিদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। চ্যাম্পিয়ন এই ফুটবলার ফুটবল থেকে কিছুটা দূরেই তিনি। নিজ জেলা নারায়ণগঞ্জে তার একটি মার্কেট আছে। দোকান দেখার পাশাপাশি নিজেও ব্যবসা করছেন।
ফিরোজ মাহমুদ হোসেন টিটু
২০১২ সালে ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে জড়িয়ে যান ফিরোজ মাহমুদ হোসেন টিটু। জুলাই গণঅভ্ভূথানের পর আড়ালে চলে গেছেন তিনি। এর আগে প্রাইম ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে খেলা থেকে দূরে ছিলেন না। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দল উত্তরা ক্লাবের সহসভাপতির সঙ্গে ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করছেন।
মোস্তফা আনোয়ার পারভেজ
২০০৩ সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন দলের অন্যতম সদস্য মোস্তফা আনোয়ার পারভেজ। খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করার পর কোচিংয়ে এসেছেন। বাফুফে তালিকাভুক্ত কোচ ছিলেন কয়েক বছর। এখন বাফুফের হেড অফ এলিট ইয়ুথ হিসেবে কাজ করছেন। খেলোয়াড় হিসেবে তার যেমন সাফ-সাফল্য আছে, ঠিক তেমনি কোচ হিসেবেও তিনি বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৫ সাফের শিরোপা। ২০১৮ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল জিতেছিল বাংলাদেশ। সাফজয়ী একমাত্র খেলোয়াড় ও কোচ বলা হয় সাবেক এই লেফট উইং ব্যাককে।
আরিফ খান জয়
আরিফ খান জয় ছিলেন খ্যাতিমান ফুটবলার, বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক। অবসরের পর নাম লেখান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে নেত্রকোনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য (এমপি) হন এবং সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। শেষ নির্বাচনে দলের থেকে মনোনায়ন পাননি। নেত্রকোনা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আরিফ খান জয়।
আরমান মিয়া
২০০৩ সাফের টুর্নামেন্ট সেরা মিডফিল্ডার আরমান মিয়া ফুটবল থেকে দূরে। নিজে টুকটাক ফুটবল খেললেও পেশাদার কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নেই তিনি। ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাসের সঙ্গে করছেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসা।
মতিউর রহমান মুন্না
সেমিফাইনালে মতিউর মুন্নার একমাত্র গোলে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ গিয়েছিল ফাইনালে। এরপর ফাইনাল জয় করে শিরোপা। সেমিফাইনালে মতিউর মুন্নার গোলটিও এ দেশের ফুটবলে এমনই এক হিরণ্ময় স্মৃতি। কিন্তু সেই মুন্না এখন ফুটবল থেকে অনেক অনেক দূরে। তিনি নিজেকে একটু আড়াল করেই রেখেছেন।
আলফাজ আহমেদ
২০০৮ সালে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০১৩ সাল পর্যন্ত ঘরোয়া ফুটবলে খেলেছেন দেশের ইতিহাসের অন্যতম এই সেরা স্ট্রাইকার। পরবর্তীতে হয়েছেন কোচ। বর্তমানে মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেডের কোচ দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ছিলেন উত্তর বারিধারা ক্লাবের প্রধান কোচ।










