Logo

রাতেও কেনা যাবে টাকা দিয়ে সূর্যের আলো

রিপোর্টার: অনলাইন ডেক্স
তারিখ: 03 November 2026
কেমন হতো, যদি বিদ্যুতের মতো সূর্যের আলোও কেনাবেচা করা যেত? শুনতে কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও এমনই এক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিফ্লেক্ট অরবিটাল। মহাকাশে বিশাল আয়নার মতো প্রতিফলক স্থাপন করে সূর্যের আলো পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে সূর্য ডুবে যাওয়ার পরও পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কৃত্রিমভাবে সূর্যের আলো পৌঁছে দেয়া সম্ভব হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, সূর্যের আলোকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহযোগ্য একটি সেবায় পরিণত করা। এতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আলোকিত করা এবং উদ্ধার অভিযানেও কাজে লাগতে পারে এই প্রযুক্তি।

প্রযুক্তিটি পরীক্ষার জন্য ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের সঙ্গে দুটি রকেট উৎক্ষেপণের চুক্তি করেছে রিফ্লেক্ট অরবিটাল।তবে উচ্চাভিলাষী এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা করছেন, মহাকাশ থেকে প্রতিফলিত আলো রাতের স্বাভাবিক অন্ধকার ও আকাশের পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

রিফ্লেক্ট অরবিটালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১৮ মিটার বাই ১৮ মিটার আকারের বিশাল প্রতিফলক বা আয়না স্থাপন করা হবে। এগুলো এমনভাবে পরিচালনা করা যাবে, যাতে সূর্য দিগন্তের নিচে চলে যাওয়ার পরও নির্দিষ্ট এলাকায় সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পাঠানো যায়।

প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্যবহৃত আয়নাগুলো প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসের একটি এলাকাজুড়ে আলো ফেলতে পারবে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী আয়নার অবস্থান ও দিক পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট এলাকায় আলো ধরে রাখার চেষ্টা করবে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ, যারা এই সেবা কিনবেন, তাদের নির্ধারিত এলাকাতেই আলো পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০৩৫ সালের মধ্যে কক্ষপথে ৫০ হাজার স্যাটেলাইট স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রিফ্লেক্ট অরবিটাল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রতিফলিত আলোর উজ্জ্বলতা চাঁদের আলোর কাছাকাছি হবে। স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আলোর উজ্জ্বলতা ও স্থায়িত্বও বাড়বে।প্রকল্পের পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ইয়ারেন্ডিল-১’ নামের একটি প্রদর্শনী স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হবে। গ্রাহকেরা একটি অ্যাপের মাধ্যমে কোন এলাকায় আলো চান, তা নির্বাচন করতে পারবেন।এই প্রযুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি পিয়ার-রিভিউড গবেষণায় মডেলিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে, মহাকাশ থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুমণ্ডলের অণু ও অ্যারোসল কণাগুলো আলোর কিছু অংশ চারপাশে ছড়িয়ে দিতে পারে। আবার ভূমিতে পৌঁছানো আলো প্রতিফলিত হয়ে ওপরের দিকে উঠে বায়ুমণ্ডলে পুনরায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।এর ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় আলো ফেলার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে আশপাশের অনেক বিস্তৃত এলাকাজুড়ে আলোর প্রভাব তৈরি হতে পারে।

গবেষণার মডেল অনুযায়ী, আয়না নির্ধারিত এলাকা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও ভূপৃষ্ঠে তৈরি হওয়া আলোর আভা পূর্ণিমার চাঁদের আলোর চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হতে পারে।অর্থাৎ, যারা এই আলো ব্যবহারের জন্য অর্থ ব্যয় করেননি, তারাও এর প্রভাবে পড়তে পারেন। তবে গবেষণার ফলাফল মূলত গাণিতিক মডেল ও হিসাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বাস্তবে প্রযুক্তিটি পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এর প্রকৃত প্রভাব নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়।

গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে প্রকল্পটির জন্য অনুমোদন পেয়েছে রিফ্লেক্ট অরবিটাল। তবে এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদী সংগঠন।তাদের আশঙ্কা, মহাকাশ থেকে কৃত্রিমভাবে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করার এই উদ্যোগ রাতের আকাশের স্বাভাবিক অন্ধকার নষ্ট করতে পারে। এতে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশের ওপরও প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের কাছে প্রকল্পটির অনুমোদন বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শামসুদ্দোহা প্রিন্স

বার্তা সম্পাদক
মাসুদ রানা
ঠিকানা: ২৮/১ টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা।  |  ফোন: 01778285847  |  ই-মেইল: natonbangladesh@gmail.com
© 2026 notunbangladesh24. All Rights Reserved.
ঢাকা  |  Thursday, 05 November, 2026
Notun Bangladesh 24
তথ্যপ্রযুক্তি

রাতেও কেনা যাবে টাকা দিয়ে সূর্যের আলো

অনলাইন ডেক্স
স্টাফ রিপোর্টার
03 Nov 2026
News Image

বিস্তারিত পড়ুন

কেমন হতো, যদি বিদ্যুতের মতো সূর্যের আলোও কেনাবেচা করা যেত? শুনতে কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও এমনই এক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিফ্লেক্ট অরবিটাল। মহাকাশে বিশাল আয়নার মতো প্রতিফলক স্থাপন করে সূর্যের আলো পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে সূর্য ডুবে যাওয়ার পরও পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কৃত্রিমভাবে সূর্যের আলো পৌঁছে দেয়া সম্ভব হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, সূর্যের আলোকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহযোগ্য একটি সেবায় পরিণত করা। এতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আলোকিত করা এবং উদ্ধার অভিযানেও কাজে লাগতে পারে এই প্রযুক্তি।

প্রযুক্তিটি পরীক্ষার জন্য ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের সঙ্গে দুটি রকেট উৎক্ষেপণের চুক্তি করেছে রিফ্লেক্ট অরবিটাল।তবে উচ্চাভিলাষী এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা করছেন, মহাকাশ থেকে প্রতিফলিত আলো রাতের স্বাভাবিক অন্ধকার ও আকাশের পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

রিফ্লেক্ট অরবিটালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১৮ মিটার বাই ১৮ মিটার আকারের বিশাল প্রতিফলক বা আয়না স্থাপন করা হবে। এগুলো এমনভাবে পরিচালনা করা যাবে, যাতে সূর্য দিগন্তের নিচে চলে যাওয়ার পরও নির্দিষ্ট এলাকায় সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পাঠানো যায়।

প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্যবহৃত আয়নাগুলো প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসের একটি এলাকাজুড়ে আলো ফেলতে পারবে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী আয়নার অবস্থান ও দিক পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট এলাকায় আলো ধরে রাখার চেষ্টা করবে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ, যারা এই সেবা কিনবেন, তাদের নির্ধারিত এলাকাতেই আলো পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০৩৫ সালের মধ্যে কক্ষপথে ৫০ হাজার স্যাটেলাইট স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রিফ্লেক্ট অরবিটাল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রতিফলিত আলোর উজ্জ্বলতা চাঁদের আলোর কাছাকাছি হবে। স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আলোর উজ্জ্বলতা ও স্থায়িত্বও বাড়বে।প্রকল্পের পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ইয়ারেন্ডিল-১’ নামের একটি প্রদর্শনী স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হবে। গ্রাহকেরা একটি অ্যাপের মাধ্যমে কোন এলাকায় আলো চান, তা নির্বাচন করতে পারবেন।এই প্রযুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি পিয়ার-রিভিউড গবেষণায় মডেলিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে, মহাকাশ থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুমণ্ডলের অণু ও অ্যারোসল কণাগুলো আলোর কিছু অংশ চারপাশে ছড়িয়ে দিতে পারে। আবার ভূমিতে পৌঁছানো আলো প্রতিফলিত হয়ে ওপরের দিকে উঠে বায়ুমণ্ডলে পুনরায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।এর ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় আলো ফেলার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে আশপাশের অনেক বিস্তৃত এলাকাজুড়ে আলোর প্রভাব তৈরি হতে পারে।

গবেষণার মডেল অনুযায়ী, আয়না নির্ধারিত এলাকা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও ভূপৃষ্ঠে তৈরি হওয়া আলোর আভা পূর্ণিমার চাঁদের আলোর চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হতে পারে।অর্থাৎ, যারা এই আলো ব্যবহারের জন্য অর্থ ব্যয় করেননি, তারাও এর প্রভাবে পড়তে পারেন। তবে গবেষণার ফলাফল মূলত গাণিতিক মডেল ও হিসাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বাস্তবে প্রযুক্তিটি পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এর প্রকৃত প্রভাব নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়।

গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে প্রকল্পটির জন্য অনুমোদন পেয়েছে রিফ্লেক্ট অরবিটাল। তবে এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদী সংগঠন।তাদের আশঙ্কা, মহাকাশ থেকে কৃত্রিমভাবে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করার এই উদ্যোগ রাতের আকাশের স্বাভাবিক অন্ধকার নষ্ট করতে পারে। এতে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশের ওপরও প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের কাছে প্রকল্পটির অনুমোদন বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।