Logo

মঠবাড়িয়ায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তিন পরিবারের দুর্বিষহ জীবন

রিপোর্টার: ডেস্ক রিপোর্ট
তারিখ: 12 October 2026
একটি কিশোরীর বিষপানে মৃত্যু। সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা।
আর সেই মামলায় অভিযুক্ত তিন যুবকের আটকের পর চরম সংকটে পড়েছে তিনটি পরিবার।
পরিবারের দাবি, উপার্জনক্ষম সদস্যরা আটক থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাঁরা। পারিবারিক শত্রুতা মেটানোর জন্যই করা হয়েছে এই মামলা।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার খেতাছিড়া গ্রামে ২০২৪ সালের ৭ জুন কীটনাশক পান করার পর ফাতিমা নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মোহাম্মদ লিটন শরীফ তিন যুবকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন।


মামলার নথিতে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হৃদয়, রাজীব ও সোহাগের নাম। বাদীর অভিযোগ, কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া, মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি এবং আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার মতো ঘটনা ঘটেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট মামলাটি অনুসন্ধানের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং চিকিৎসকের মতামতের তথ্য রয়েছে। ময়নাতদন্ত-সংক্রান্ত চূড়ান্ত মতামতে অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি, ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের দায় রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, মামলার পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে অভিযুক্ত তিন যুবকের পরিবার। পরিবারের দাবি, রাজীব ও হৃদয়কে ৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে এবং সোহাগকে গত ৮ অক্টোবর সকাল আটটার দিকে আটক করা হয়।

পরিবারগুলোর ভাষ্য, আটক তিন যুবকই তাঁদের সংসারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাঁদের অনুপস্থিতিতে সংসারের খরচ চালানো, খাবার জোগাড় করা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

পরিবারের দুর্ভোগের বিষয়টি যেমন মানবিক গুরুত্ব বহন করে, তেমনি কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনটি পরিবারের দাবি,তাঁরা ন্যায়বিচার চান, চান প্রকৃত ঘটনা সবার সামনে আসুক। অন্যদিকে, কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তিও প্রত্যাশিত। এখন প্রশ্ন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কী উঠে আসে? সেই উত্তর দেবে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী লিটন শরীফের কাছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সাথে কোন বক্তব্য দেবেন না বলে সাব জানিয়ে দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শামসুদ্দোহা প্রিন্স

বার্তা সম্পাদক
মাসুদ রানা
ঠিকানা: ২৮/১ টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা।  |  ফোন: 01778285847  |  ই-মেইল: natonbangladesh@gmail.com
© 2026 notunbangladesh24. All Rights Reserved.
ঢাকা  |  Thursday, 05 November, 2026
Notun Bangladesh 24
জাতীয়

মঠবাড়িয়ায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তিন পরিবারের দুর্বিষহ জীবন

ডেস্ক রিপোর্ট
স্টাফ রিপোর্টার
12 Oct 2026
News Image

বিস্তারিত পড়ুন

একটি কিশোরীর বিষপানে মৃত্যু। সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা।
আর সেই মামলায় অভিযুক্ত তিন যুবকের আটকের পর চরম সংকটে পড়েছে তিনটি পরিবার।
পরিবারের দাবি, উপার্জনক্ষম সদস্যরা আটক থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাঁরা। পারিবারিক শত্রুতা মেটানোর জন্যই করা হয়েছে এই মামলা।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার খেতাছিড়া গ্রামে ২০২৪ সালের ৭ জুন কীটনাশক পান করার পর ফাতিমা নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মোহাম্মদ লিটন শরীফ তিন যুবকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন।


মামলার নথিতে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হৃদয়, রাজীব ও সোহাগের নাম। বাদীর অভিযোগ, কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া, মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি এবং আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার মতো ঘটনা ঘটেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট মামলাটি অনুসন্ধানের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং চিকিৎসকের মতামতের তথ্য রয়েছে। ময়নাতদন্ত-সংক্রান্ত চূড়ান্ত মতামতে অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি, ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের দায় রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, মামলার পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে অভিযুক্ত তিন যুবকের পরিবার। পরিবারের দাবি, রাজীব ও হৃদয়কে ৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে এবং সোহাগকে গত ৮ অক্টোবর সকাল আটটার দিকে আটক করা হয়।

পরিবারগুলোর ভাষ্য, আটক তিন যুবকই তাঁদের সংসারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাঁদের অনুপস্থিতিতে সংসারের খরচ চালানো, খাবার জোগাড় করা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

পরিবারের দুর্ভোগের বিষয়টি যেমন মানবিক গুরুত্ব বহন করে, তেমনি কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনটি পরিবারের দাবি,তাঁরা ন্যায়বিচার চান, চান প্রকৃত ঘটনা সবার সামনে আসুক। অন্যদিকে, কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তিও প্রত্যাশিত। এখন প্রশ্ন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কী উঠে আসে? সেই উত্তর দেবে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী লিটন শরীফের কাছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সাথে কোন বক্তব্য দেবেন না বলে সাব জানিয়ে দেন।